দুর্গাপূজার আনন্দকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে নাড়ু-মোয়া তৈরির উৎসব। নারকেল, গুড়, তিল, মুড়ি ও খইয়ের নানা পদ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। মিষ্টান্ন তৈরির এই আয়োজন ঘিরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আনন্দঘন পরিবেশ।
পূজার দিন ঘনিয়ে আসতেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মহল্লার রান্নাঘরে বাড়ছে ব্যস্ততা। কোথাও নারকেল কোরানো হচ্ছে, কোথাও গুড়ের পাক তৈরি হচ্ছে। কেউ তিল ভাজছেন, আবার কেউ মুড়ি ও খইয়ের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে বানাচ্ছেন মোয়া। তৈরি করা এসব মিষ্টি অতিথিদের পরিবেশনের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে পাঠানো হয়।
এই আয়োজনের প্রধান কারিগর বাড়ির নারীরা। তবে সবাই নিজ হাতে এসব খাবার তৈরি করতে পারেন না। তাই অনেকে দক্ষ প্রতিবেশী নারীদের ডেকে নেন। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তারা বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে নাড়ু-মোয়া তৈরি করে দেন। ইন্দুবালা ও গীতারাণী জানান, এভাবে কাজ করে প্রত্যেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আয়ের আশা করছেন।
কোথাও আবার কয়েকজন নারী মিলে দলগতভাবে এসব খাবার তৈরি করেন। এক বাড়িতে কাজ শেষ করে পরদিন অন্য বাড়িতে যান তারা। এতে যেমন কাজ সহজ হয়, তেমনি গল্প-আড্ডা ও পারস্পরিক সহযোগিতায় উৎসবের আনন্দও ভাগাভাগি হয়।
সিরাজগঞ্জে পূজার মিষ্টান্নের তালিকায় রয়েছে নারকেল-গুড়ের নাড়ু, তিলের নাড়ু, ছাতুর নাড়ু ও মুড়ি-খইয়ের মোয়া। উপকরণ ও তৈরির কৌশল অনুযায়ী এসব খাবারের স্বাদে ভিন্নতা আসে। দুধ ও বাদাম দিয়েও তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি।
এবার এসব মিষ্টান্ন তৈরির উপকরণের দাম বেড়েছে। নারকেল, গুড়, তিল, মুড়ি ও খই কিনতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তারপরও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারেই চলছে মিষ্টি তৈরির প্রস্তুতি। পূজার আনন্দের সঙ্গে এই আয়োজনের সম্পর্ক বহুদিনের।
জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বিপি অমর কৃষ্ণ দাস এবং জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুকুমার চন্দ্র দাস জানান, দুর্গাপূজায় নাড়ু-মোয়া দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। এ কারণেই পূজার সময় সিরাজগঞ্জের ছোট-বড় সব পরিবারে এসব মিষ্টি তৈরির ব্যস্ততা দেখা যায়।
পৌর এলাকার রামকুণ্ড বলেন, প্রায় ৬০-৭০ বছর ধরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পাড়ায় পাড়ায় নাড়ু-মোয়া তৈরির এই ঐতিহ্য দেখে আসছেন তিনি। প্রভাত কুমার দাস ও স্কুলশিক্ষক বিনাবাণী সাহা বলেন, পূজার এসব মিষ্টান্ন হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয়। অতিথি আপ্যায়নের পাশাপাশি স্বজনদের বাড়িতে পাঠানোর মধ্য দিয়েও এই ঐতিহ্য টিকে আছে।