চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ভেটুয়া গ্রাম এলাকার কাটা গাঙ্গে বাঁশের বেড়া দিয়ে সুতি জালের ফাঁদ পেতে মাছ নিধন করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাশেঁর বেড়া ও সুতি জালের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিস্তীর্ণ মাঠের কৃষি জমির পানি নামতে দেরি হচ্ছে। কচুরিপানায় ভরে আছে আবাদের জমি।
এদিকে চলনবিলের অন্যতম পানি নিষ্কাশনের খাল হিসেবে পরিচিত কাটা গাঙ্গে সুতি জালের ফাঁদ পাত হয়েছে প্রায় এক মাস হলো। অথচ, সুতি জাল অপসরণে উপজেলা প্রসাশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কোনো ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
ভেটুয়া গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী, দেলবর হোসেন, আব্দুল কাদের, কুন্দইল গ্রামের কৃষক খাইরুল হোসেন, ইদ্রিস আলী, ধাপ তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক, জাহের প্রামানিক, ইউনুছ আলী, আলতাব হোসেন বলেন, এ বছর বন্যায় রোপা আমন ধানের আবাদ হয়নি। রবিশস্য আবাদ করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন। কিন্তু বাঁশের বেড়া ও সুতি জালের কারণে জমি থেকে পানি নামতে দেরি হচ্ছে। কচুরিপানায় ভরে গেছে জমি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাটা গাঙ্গ থেকে সুতি জাল অপসারণ করা না হলে বিশেষ করে সরিষার আবাদ করা সম্ভব হবে না।
অপরদিকে এলাকার জেলেরা জানিয়েছেন, বন্যার পানির সাথে পুঁটি, টেংরা, পাঁতাসি, রায়েক, চেলা, মোয়া, চাটা খইলসা, বাড়ি খইলসা, বাইলা, গুচি, টাকি, কই, জিয়াল, মাগুড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ হরেক মাছ চলনবিলে ঢুকে পড়ে। এসব মাছ ধরে সংসার চলে তাদের। বিলের পানি কমতে শুরু করলে সব মাছ কাটা গাঙ্গে নেমে পড়ে। উজানে সুতি জাল থাকায় বিলের ভাটি অঞ্চলে তেমন মাছ ধরা পড়ছে না। জীবিকা নির্বাহ নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জানা গেছে, ভেটুয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম, সবুজ হোসেন, ফরিদুল ইসলাম, রিপনসহ অনেকেই অবৈধ সুতি জালের সাথে জড়িত রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভেটুয়া ও কুন্দইল গ্রাম এলাকার মাঝে কাটা গাঙ্গে সুতি জাল রয়েছে। গাঙ্গের দুই পাশে বাঁশ পুঁতে বেড়া দেওয়া হয়েছে। পানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উজানের পানি তুলনামুলক বেশি রয়ে গেছে। উজানের কৃষি জমিগুলো কচুরিপানায় ভরে আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, বিলাঞ্চলে সপ্তাখানের মধ্যে সরিষার আবাদ করবেন কৃষকরা। এই সময় জমিতে পানি আটকে থাকলে সরিষার আবাদ হবে না। সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলবো সুতি জাল অপসারণের বিষয়ে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি টাকা ব্যয়ে কাটা গাঙ্গ পুনঃখনন করেছে চলনবিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য। কোনোভাবে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা কাম্য নয়। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের সাথে কথা বলে সুতি জাল অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম সাইফের সাথে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুতি জাল অপসারণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ প্রিয় বাংলাদেশকে বলেন, জনসার্থ ব্যহত হয়, এমন কান্ড আইনত অপরাধ। সুতি জাল অপসারণ করা হবে।