সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাটের ভালো দাম ও বীজ উৎপাদনে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনায় পাটবীজ সংরক্ষণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। স্থানীয়ভাবে ‘পাটের বিচন’ নামে পরিচিত এই বীজ উৎপাদনে চলতি মৌসুমে অনেক কৃষক ঝুঁকেছেন। সরকারি সহায়তায় বীজ সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় হাট ও অন্য কৃষকের কাছ থেকেও বীজ কিনে চাষ করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশি সাদা, মেছতা, তোষা ও কেনাফ জাতের পাট চাষ হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা, ছোট বাকুয়া, পংরৌহা ও ভদ্রকোল এবং পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের পুকুরপাড়, বেতুয়া, ছয়বাড়িয়া ও পুঠিয়ামাঠ এলাকার অনেক কৃষক পাট না কেটে বীজ উৎপাদনের জন্য রেখে দিয়েছেন। কয়ড়া ও বড়হর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠেও একই চিত্র দেখা গেছে। আগাম চাষ করা পাটগাছে ফুল আসার পর বীজের গুটি তৈরি হতে শুরু করেছে।
নাগরৌহা মাঠের কৃষক আজিম উদ্দিন, মেহের প্রামাণিক, সাইদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও আশরাফ আলী পাটবীজ অফিস থেকে বিনা মূল্যে সরকারি বীজ পেয়েছিলেন। তারা প্রত্যয়িত দেশি সাদা পাটের সিভিএল-১ জাত চাষ করে বীজ সংরক্ষণ করছেন। কৃষক মেহের আলী প্রামাণিক জানান, সরকারি সহায়তায় পাওয়া বীজ দিয়ে তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন এবং বীজ রাখছেন। চুক্তি অনুযায়ী, উৎপাদিত বীজ পরবর্তী সময়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের কাছ থেকে কিনে নেওয়া হবে।
একই মাঠের কৃষক জাফর আলী, মোকাই হোসেন, আবদুল করিম ও জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন কৃষক স্থানীয় হাট ও অন্য কৃষকের কাছ থেকে বীজ কিনে চাষ করেছেন। জাফর আলী বলেন, অন্য কৃষকের কাছ থেকে বীজ কিনে চাষ করেছি। এখন সেই পাট বীজ উৎপাদনের জন্য রেখে দিয়েছি।
কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পাটগাছে ভালো বীজ হচ্ছে। বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি বীজ ও পাটখড়ি বিক্রি করেও বাড়তি আয় করা সম্ভব। এ কারণে বীজ সংরক্ষণে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। দুর্গানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের পাটগাছের বীজযুক্ত অংশ কেটে বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
উল্লাপাড়া বিএডিসির উপসহকারী পরিচালক (পাটবীজ) মোছা. মরিয়ম বেগম জানান, চলতি মৌসুমে পাটবীজ উৎপাদনে আগ্রহী ৭০ জন কৃষককে বিনা মূল্যে সরকারি বীজ দেওয়া হয়েছে। তারা সফলভাবে চাষাবাদ শেষে বীজ সংরক্ষণ করছেন। চুক্তি অনুযায়ী, উৎপাদিত বীজ কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিনে নেওয়া হবে।




