রাশিয়ার সামরিক ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে জাপানি সাংবাদিক ইউকি ইমাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি জাপানের পক্ষে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, জাপানের হোক্কাইডো শিমবুন পত্রিকার সাংবাদিককে রাশিয়ার সাখালিন অঞ্চল থেকে আটক করা হয়। দেশটি ত্যাগের নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করে মস্কোয় নেওয়া হয়। ইন্টারফ্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে ইমাইয়ের বিরুদ্ধে। কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, তার সরকার বিষয়টি যাচাই করছে এবং পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা দাবি করেছেন, বিদেশি সাংবাদিকদের পরিচয় কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে জাপান। তবে তার এ বক্তব্যের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
ইমাই রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এবং সাখালিনের স্থানীয় জীবনযাত্রা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তার সংবাদপত্র গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি।
এদিকে রাশিয়া ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা বিরোধে জর্জরিত। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের চারটি দ্বীপ নিজেদের বলে দাবি করে জাপান। এ বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর জাপান মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জাপানি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানেকে প্রত্যর্পণের জন্য রাশিয়ার অনুরোধও সাম্প্রতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৩ সালে আদালত পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
বিদেশি সাংবাদিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটকের ঘটনা রাশিয়ায় আগেও ঘটেছে। ২০২৩ সালে মার্কিন সাংবাদিক ইভান গেরশকোভিচকে গ্রেপ্তার করে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে বড় ধরনের বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান। ইউকি ইমাইয়ের মামলায় অভিযোগের সত্যতা, বিচারপ্রক্রিয়া এবং জাপান সরকারের পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি