কেনিয়ায় অনুসারীদের অনাহারে রেখে ১৯০ শিশুসহ ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ধর্মীয় নেতা পল ম্যাকেঞ্জির সাজা ঘোষণা করা হবে আজ শুক্রবার। ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে দেশটির উপকূলীয় পর্যটন এলাকা মালিন্দির কাছে শাকাহোলা বনে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর আস্তানা থেকে শত শত মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ‘শাকাহোলা ফরেস্ট ম্যাসাকার’ নামে পরিচিতি পায়।
নিজেকে ধর্মযাজক পরিচয় দেওয়া ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের অনাহারে মৃত্যুবরণ করতে উৎসাহিত করতেন। তার দাবি ছিল, এভাবে জীবন বিসর্জন দিলে তারা যিশুর সান্নিধ্য লাভ করবেন। গত মাসে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৯০ শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যার দায়ে আদালত তাকে এবং একই মামলার আরও ২৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগেও মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগ অবশ্য তিনি অস্বীকার করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ চলতি সপ্তাহে ম্যাকেঞ্জির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। তাদের মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এবং তার কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা বিবেচনায় কঠোর শাস্তি প্রয়োজন। তবে সাজা নির্ধারণে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন, অনুশোচনা ও সংশোধনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার শুনানিতে প্রায় ১২০ জন সাক্ষী আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাকেঞ্জির অনুসারীরা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে শয়তানের কাজ মনে করতেন। আধুনিক চিকিৎসা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাও প্রত্যাখ্যান করতেন তারা। এমনকি বাইরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৩ সালের এপ্রিলে ম্যাকেঞ্জিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শাকাহোলা বনের প্রায় ৩২৫ হেক্টরের একটি খামার থেকে তার অনুসারীদের উদ্ধার করা হয়। কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২৯।
উল্লেখ্য, কেনিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান এখনো কার্যকর থাকলেও ১৯৮৭ সালের পর দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। এ মামলায় ম্যাকেঞ্জির সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।