তানজানিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা তুন্দু লিসুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ শুক্রবার। দীর্ঘ ১৯ মাস কারাবন্দি থাকার পর এ রায়ের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড পেতে পারেন তিনি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ভোট বর্জনের আহ্বান জানানোর অভিযোগে লিসুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই নির্বাচনের সময় প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের সরকারের বিরুদ্ধে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তানজানিয়া সরকারের দেওয়া হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৫১৮।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী দারুস সালামে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। লিসুর দল চাদেমা সমর্থকদের আদালত এলাকায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, বুধবার তানজানিয়া পুলিশ এক বিবৃতিতে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের দাবি, কয়েকটি গোষ্ঠী দারুস সালামে লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করছে।
লিসুর বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করে তার মুক্তি দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগের উদ্যোগ বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তানজানিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম ট্রাচম্যানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বক্তব্যে লিসুর বিচার এবং দেশটির আইনের শাসনের ওপর এর প্রভাব পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন।
মূল ভূখণ্ড তানজানিয়ার ইতিহাসে রাষ্ট্রদ্রোহের আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয়। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে একই ধরনের দুটি মামলা হয়েছিল। সেসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারেকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
৫৮ বছর বয়সী লিসু অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। এর আগেও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১৭ সালে এক হামলায় তার শরীরে ১৬টি গুলি লাগে। পরে তাকে প্রায় ২০টি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ওই হামলাকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন।
মামলার সর্বশেষ শুনানিতে তিন বিচারকের আদালতে নিজেই নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন লিসু। এ সময় বিচারকদের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তানজানিয়ার নাগরিক সমাজের সংগঠন টওয়েজা ইস্ট আফ্রিকার পরিচালক আনা বওয়ানার মতে, লিসু দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর সম্ভাব্য শাস্তি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।