ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের ১ লাখ ডলারের বিল পরিশোধে এক রাজনৈতিক দাতার সহায়তা চাওয়া এবং বিনিময়ে মার্কিন প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে পড়েছেন গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েল। এ ঘটনায় তাকে পদত্যাগ করতে বলেছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গিলফয়েলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম *দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রিপাবলিকান দলের সমর্থক ও রাজনৈতিক দাতা এরিক ডেটার্সের কাছে নিজের আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটাতে ১ লাখ ডলার চেয়েছিলেন গিলফয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার শুনানির কয়েক দিন আগে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাঠানোর জন্য ডেটার্সকে তাগাদা দিয়েছিলেন গিলফয়েল। অর্থ দিলে তা নথিভুক্ত হবে না—এমন বক্তব্যও তিনি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ডেটার্স শেষ পর্যন্ত অর্থ দেননি। তার দাবি, গিলফয়েলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর প্রত্যাশা ছিল তার। করসংক্রান্ত বিষয়সহ কয়েকটি ক্ষেত্রে তিনি সহায়তা চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলো নিয়ে বিরোধ রয়েছে। গিলফয়েলের আইনজীবী প্রকাশিত বার্তা ও নথির সত্যতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। গিলফয়েলও কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গ্রিসে দায়িত্ব পালন নিয়েও অভিযোগ
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে গ্রিসে দায়িত্ব পালনের সময় একটি জ্বালানি ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক তদবিরকারীর সরকারি বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরির অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া উপহার ও বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ এবং গ্রিসের এক কর্মকর্তার সঙ্গে আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তার আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়ায় সেগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
গিলফয়েল একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বাগ্‌দত্তা ছিলেন। ২০২৪ সালে তাকে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। সিনেটের অনুমোদনের পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গ্রিসে দায়িত্ব পালনকালে ইউরোপের জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়েও কাজ করেছেন তিনি।
গিলফয়েল রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকে জীবনের অন্যতম বড় সম্মান বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজের সুনাম রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। পদত্যাগের অনুরোধের পর তার কূটনৈতিক দায়িত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর পরবর্তী পরিণতি নির্ভর করবে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ওপর।