চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় ধাক্কা দিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। পার্ক দে প্রাঁসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কাতালান ক্লাবটিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। এ পরাজয়ে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতা যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি দলের আত্মবিশ্বাসেও আঘাত লেগেছে। ম্যাচের আগে বার্সেলোনার পরিসংখ্যান ছিল বেশ উজ্জ্বল। ১১ ম্যাচে দলটি করেছিল ৪৯ গোল। তবে আক্রমণভাগের এই সাফল্যের আড়ালে রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগও ছিল। মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে তিনটি ক্লিন শিট পেলেও পরের সাত ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি বার্সা। 
ওই সাত ম্যাচে তাদের জালে বল ঢুকেছিল ১১ বার। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও বার্সেলোনার রক্ষণে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। ভালেন্তিন গোমেজ ও আবদে এজাজুলিরা একাধিকবার রক্ষণ ভেঙে সুযোগ তৈরি করেছিলেন। পিএসজির বিপক্ষে সেই সমস্যাই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুই দলই চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের পায়নি। বার্সেলোনার বাইরে ছিলেন এরিক গার্সিয়া ও জুল কুন্দের মতো ডিফেন্ডাররা। অন্যদিকে পিএসজি দলে ছিল না নুনো মেন্দেস। ম্যাচ চলাকালেও চোটের কারণে উসমান দেম্বেলে, কভিচা কভারাৎসখেলিয়া ও মারকিনিয়োসকে হারাতে হয় প্যারিসের দলটিকে। তবু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয় পিএসজি। 
৩৮ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বার্সেলোনার রক্ষণে প্রথম বড় আঘাতটি করেন তিনি। বার্সেলোনাও সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে দানি ওলমো ও বদলি হিসেবে নামা ফেরমিন লোপেজের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় দলটি পিছিয়ে পড়ে। পরে ফেরমিনের পাস থেকে গোল করে সমতা ফেরান শাভি এসপার্ত, যিনি রাইটব্যাক পজিশনে খেলেও আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই অবদান রাখেন। এরপর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পিএসজি। বার্সেলোনার আক্রমণভাগ বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে। দ্বিতীয়ার্ধে ফেররান তরেসের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। 
অন্যদিকে কর্নার থেকে লুকাস এর্নান্দেজের হেডে গোল পায় প্যারিসের দল। ৭৯ মিনিটে লামিন ইয়ামালের গোলে আবারও সমতায় ফেরার আশা জাগে বার্সেলোনার। বদলি ডিফেন্ডার ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে কাটিয়ে পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। তখন মনে হচ্ছিল, অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারে কাতালানরা। কিন্তু গোল করার পরপরই রক্ষণে মনোযোগ হারানোর প্রবণতা আবারও সামনে আসে। ভিতিনিয়ার দারুণ শটে এগিয়ে যায় পিএসজি। 
এর কিছুক্ষণ পর আশরাফ হাকিমির আক্রমণ থেকে পাওয়া বলে ফাবিয়ান রুইজ গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-২। এ মৌসুমে বার্সেলোনার হজম করা ১১ গোলের মধ্যে চারটিই এসেছে নিজেদের গোল করার পাঁচ মিনিটের মধ্যে—এমন পরিসংখ্যান দলটির মনোযোগ ও রক্ষণ সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পিএসজির বিপক্ষে এই হার বার্সেলোনার জন্য শুধু পয়েন্ট হারানো নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষাও। সামনে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকো থাকায় তার আগে রক্ষণভাগের ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই এখন কোচ হানসি ফ্লিকের বড় চ্যালেঞ্জ।