বিজয়া দশমী এলেই উৎসবের রঙে মেতে ওঠে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া। দুর্গাপূজার সমাপনী দিনে ঘাঘর নদীতে বসে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আসর। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ বাইচ উপভোগ করতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ।
এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১৪টি বাচারী নৌকা। স্থানীয় দর্শকদের পাশাপাশি মাদারীপুর, বাগেরহাট ও বরিশাল থেকেও বহু মানুষ এ আয়োজন দেখতে আসেন। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের উদ্যোগ ছাড়াই প্রতিবছর বিজয়া দশমীতে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা।
কোটালীপাড়ার মানুষের কাছে এ আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন কাজে এলাকার বাইরে থাকা অনেকে এ দিন পরিবার নিয়ে গ্রামে ফেরেন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন ঘটে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার বলেন, প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় দেড়শ বছর আগে যশোরের বিঘাপতির জমিদার খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বিজয়া দশমীতে ঘাঘর নদীতে মেলা ও নৌকা বাইচের আয়োজন করেন। পরে তা স্থানীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, কোটালীপাড়ার নদী-খাল-বিলকেন্দ্রিক জনজীবনে নৌকা বাইচের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বিশ্বকর্মা, দুর্গা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ আয়োজন হয়ে থাকে। কোনো পুরস্কার বা আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ ঐতিহ্য টিকে আছে। আগামী দিনেও নৌকা বাইচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




