দীর্ঘ ৪৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বায়ার্ন মিউনিখে ব্যালন ডি’অর ফিরিয়ে আনলেন ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন। সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত পুরস্কারের ৭০তম আসরে ২০২৬ সালের পুরুষদের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ১৯৮১ সালে কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগের পর বায়ার্নের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই সম্মান পেলেন তিনি।
কেইনের অর্জন ইংল্যান্ডের ফুটবলের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর আর কোনো ইংলিশ ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। ২৫ বছরের সেই অপেক্ষাও ঘুচল এবার। এর আগে স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও ওয়েন এই কীর্তি গড়েছিলেন।
পুরস্কারের দৌড়ে কেইনের পেছনে দ্বিতীয় হয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল। চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি এবং পঞ্চম লিওনেল মেসি।
২০২৫–২৬ মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন কেইন। বায়ার্নের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে আরও ১২ গোলসহ ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৭৩। তাঁর পারফরম্যান্সে বায়ার্ন জেতে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ। ২০২৬ বিশ্বকাপেও ছয় গোল করেন কেইন, যেখানে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায় ইংল্যান্ড।
বায়ার্নের ইতিহাসে অবশ্য এমন অনেক তারকা রয়েছেন, যাঁরা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও ব্যালন ডি’অর পাননি। ২০১৩ সালে পাঁচটি শিরোপা জিতেও পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হন ফ্রাঙ্ক রিবেরি। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপজয়ী জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারও তৃতীয় স্থানে থেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ২০২০ সালে বায়ার্নের হয়ে ট্রেবল জেতা রবার্ট লেভানদোভস্কি ব্যালন ডি’অর পাওয়ার অন্যতম দাবিদার থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেবার পুরস্কার দেওয়া হয়নি। পরের বছরও তিনি দ্বিতীয় হন।
পুরস্কার গ্রহণের পর কেইন সতীর্থ ও কোচদের কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, দলের খেলোয়াড় ও অন্য সদস্যদের সমর্থন ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের কথা তুলে ধরে তিনি তরুণদের স্বপ্ন পূরণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
২০২৩ সালে টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দেন কেইন। দীর্ঘদিন দলীয় শিরোপার অপেক্ষায় থাকা এই ফরোয়ার্ড এবার ব্যক্তিগত ফুটবলের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিও পেলেন।
এবারের আসরে টানা তৃতীয়বার সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন ইয়ামাল। বর্ষসেরা পুরুষ কোচ হয়েছেন স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেরা পুরুষ গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন উনাই সিমোন এবং সেরা পুরুষ ক্লাবের স্বীকৃতি পেয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য সক্রেটিস পুরস্কার পেয়েছেন আর্সেনালের বুকায়ো সাকা।