সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থেমেছে সাদমান ইসলামের ইনিংস। আলোকস্বল্পতার কারণে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টের উদ্বোধনী দিনের খেলা শেষ হওয়ায় ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাঁহাতি এই ওপেনারকে। তার সেঞ্চুরির অপেক্ষায় এখন শুধু সমর্থকেরা নন, পুরো বাংলাদেশ দলও রোমাঞ্চ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে ৭৪ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সাদমান। ২১৯ বলের ইনিংসে ১০টি চার মেরে তিনি দিন শেষ করেন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে।
দিনের খেলা চলাকালে একবার আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়েছিল। পরে আলো পরিস্থিতির উন্নতি হলে খেলা আবার শুরু হয়। তবে সাদমান যখন সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে, তখন আবারও আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আম্পায়াররা দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন বলেন, সাদমানের সেঞ্চুরি নিয়ে দলের সবাই উদ্বিগ্ন। তার মতে, ক্যারিয়ারে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি টেস্ট খেলা এই ওপেনারের শতকের সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। এই ইনিংসটি সাদমানকে ভবিষ্যতে বড় ইনিংস খেলতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেও আশা করছেন তিনি।
সালাউদ্দিনের মতে, পুরো ইনিংসে সাদমান উইকেটের আচরণ বুঝে ব্যাটিং করেছেন। পিচে অসমান বাউন্স ও টার্ন থাকলেও তিনি অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেটে টিকে থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ।
সাদমানের সাম্প্রতিক ইনিংসগুলোতে ভালো শুরু করেও বড় সংগ্রহ গড়তে না পারার প্রবণতা ছিল। বেশ কয়েকবার অর্ধশতকের দেখা পেলেও সেগুলো সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি তিনি। এবারের ইনিংসে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেখছেন সালাউদ্দিন। তার প্রত্যাশা, সাদমান যেন এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ইনিংসটি আরও বড় করতে পারেন।
প্রথম দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিং অবশ্য পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা উইকেট থেকে সহায়তা পেয়েছেন। বাংলাদেশের অন্য ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও মুমিনুল হক বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। এ ছাড়া পায়ে টান লাগায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাওহিদ হৃদয়কে, যিনি চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া মুশফিকুর রহিমের জায়গায় দলে সুযোগ পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সাদমানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। এখন দ্বিতীয় দিনে তার সামনে অপেক্ষা করছে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সুযোগ। একই সঙ্গে এই ইনিংসকে আরও বড় করে দলকে শক্ত অবস্থানে নেওয়ার প্রত্যাশাও থাকবে বাংলাদেশের।