জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দেশে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ—এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখে টোকিও সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ২৭ অক্টোবর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ইপিএ কার্যকর হলে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে চুক্তিটি অনুমোদনের সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত কাঠামোর আওতায় আনতে এ চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাকসহ দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত কাঠামোর আওতায় আনতে এ চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাকসহ দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। আরও কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ১৮ বছর পর্যন্ত শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইপিএ শুধু শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, শুল্ক প্রক্রিয়া এবং বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও পূর্বানুমানযোগ্য হতে পারে।
জাপানে পোশাক রপ্তানি ৩০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য জাপানের বাজারকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই আয় বাড়িয়ে ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের উদ্যোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য জাপানের বাজারকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই আয় বাড়িয়ে ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের উদ্যোগ রয়েছে।
জাপানের বার্ষিক পোশাক আমদানির বাজার প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের। ফলে শুল্ক সুবিধা বজায় থাকলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিট ও ওভেন পোশাক, ডেনিম, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ছাড়াও চামড়াজাত সামগ্রী, পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, চিংড়ি এবং কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিজিএমইএর উত্তরার কার্যালয়ে ‘জাপান ডেস্ক’ চালুর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এশীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোকে আকৃষ্ট করতে হংকংয়ে রোডশো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনে আগ্রহ টয়োটার
জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এ পরিকল্পনার কথা জানায়।
জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এ পরিকল্পনার কথা জানায়।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হতে পারে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে। এদিকে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বাংলাদেশের রানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের গাড়ি উৎপাদনশিল্পে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-৩১ মেয়াদে বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজ প্রস্তাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে সহজ শর্তের ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সমন্বয় থাকার কথা রয়েছে।পরিবহন অবকাঠামো, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বন্দর, শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পে এসব অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-৩১ মেয়াদে বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজ প্রস্তাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে সহজ শর্তের ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সমন্বয় থাকার কথা রয়েছে।পরিবহন অবকাঠামো, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বন্দর, শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পে এসব অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে এসব প্রকল্পের অগ্রগতি, নতুন অর্থায়ন এবং ঋণের সুদহার কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এদিকে সফরের সময় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী ঢাকায় থাকবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
সফরের কূটনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলাম টোকিওতে থাকবেন। সব মিলিয়ে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




