কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের দাবিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন।
চিঠিতে বলা হয়, শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়া, শিলাইদহ, চর সাদীপুর, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের একাংশের প্রায় দুই লাখ মানুষ এ যোগাযোগপথের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করেন।
নদী পারাপারে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, রোগী ও প্রসূতি মায়েদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেতুটি নির্মিত হলে এ ভোগান্তি কমার পাশাপাশি কুষ্টিয়া শহরের সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ সহজ হবে বলে মনে করছেন আবেদনকারীরা।
সেতু নির্মাণের দাবিতে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। পরে ওই বছরের ৩০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-২ শাখা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানায়।
আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্প পরিচালক (সেতু) প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। একই বছরের ৬ থেকে ৯ অক্টোবর পরিবেশবিষয়ক জরিপ করা হয়। এরপর ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীদের একটি উচ্চপর্যায়ের দলও প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহের কুঠিবাড়ী ও ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়ার মধ্যে যোগাযোগও সহজ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিটি সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন নয়। এতে কেবল প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের এ দাবির বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।




