সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে বৃহস্পতিবার খুলনা ও মোংলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে নির্বাচনের পর এ অঞ্চলে এটি তার প্রথম সফর।
সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে সফর শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে কোস্টগার্ডের দ্রুতগতির নৌযানে আকরাম পয়েন্ট হয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নলিয়ান এলাকায় প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানিয়েছেন, নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর হলেও সেখানে স্থানীয় কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠুও সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য, নলিয়ান থেকে নৌপথে আকরাম পয়েন্ট হয়ে মোংলা বন্দরে যাওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনা রয়েছে। দাকোপে কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন এবং নির্ধারিত সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ সময় বন্দর সম্প্রসারণ ও বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বিনিয়োগের সম্ভাবনা আলোচনায় আসতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও শিল্পায়নে নতুন গতি আনতে পারে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, লজিস্টিকস ও সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পথও প্রসারিত হতে পারে।
তবে উন্নয়নের এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। বিশেষ করে বন্দর ও শিল্প সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সম্ভাবনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুন্দরবন, পর্যটন, মোংলা বন্দর ও শিল্পায়নকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এদিকে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রীর আবারও খুলনায় যাওয়ার কথা রয়েছে।




