সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে আগে অবহিত না করার ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানায়।
এইচআরএফবি বলেছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ মিশনকে অবহিত না করে থাকলেও তাতে কনস্যুলেটের নিজস্ব দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। বিশেষ করে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দুই নাগরিকের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিশন কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশি সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাদের একজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, অন্যজনের টাঙ্গাইলে। সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন এবং ব্যভিচারের অভিযোগে তারা গ্রেপ্তার হয়ে তিন বছরের বেশি সময় বন্দি ছিলেন।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের ১৮ অক্টোবরের এক চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পুরুষকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট গ্রেপ্তার করে জেদ্দা সংশোধনাগারে রাখা হয়েছিল। পরদিন গ্রেপ্তার হওয়া নারীকে রাখা হয় জেদ্দা মহিলা কারাগারে। মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এইচআরএফবি জানায়, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়েছিল জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম থাকলেও তাদের সাজা সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না।
সংগঠনটি জানতে চেয়েছে, ওই তালিকা পাওয়ার পর কনস্যুলেট দুই নাগরিকের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে কী উদ্যোগ নিয়েছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সাজা ও আইনি অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, তারও ব্যাখ্যা দাবি করেছে এইচআরএফবি।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক মিশনগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে তারা।