দেশের প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। রিকের ‘আইএসআইজিওপি’ প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান এবং অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের আহ্বায়ক জাকিয়া শিশির। মূল আলোচক ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এম এম মাহমুদুল্লাহ।
সভায় আলোচকরা জানান, বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৬২ লাখ মানুষ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে পাঁচ কোটি বা মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশের বেশি হতে পারে। দীর্ঘায়ুর সঙ্গে প্রবীণদের প্রতি অবহেলা, সহিংসতা, আর্থিক শোষণ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা জরুরি।
প্রবীণদের প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন আলোচকরা। প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা তুলে ধরে টেলিভিশনে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারেরও আহ্বান জানান তারা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান বলেন, প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে সর্বজনীন পেনশন স্কিম জনপ্রিয় করতে সরকার কাজ করছে। অন্যদিকে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এম এম মাহমুদুল্লাহ সরকারের চার কোটি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রবীণদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।