হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ভাড়াটে চক্রের বিরুদ্ধে। গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের হাতকড়া পরানো, মারধর ও টাকা লুটের মতো অপরাধে জড়িত এসব চক্রের সদস্যরা ঘটনার পর ঢাকার বাইরে কিংবা বিদেশে পালিয়ে আত্মগোপন করেন বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাকাতির জন্য এসব চক্র পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়। বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের বড় চালান লুটের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক কোটি টাকায় পৌঁছানোর অভিযোগও রয়েছে। চক্রের কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিচ্যুত কিছু সদস্যেরও এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
পাবনার চাটমোহরের বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩) এমনই একটি চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ‘মেসার্স কৃষি ভান্ডার’ নামে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাকাতিতে ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া ও ওয়াকিটকি রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। সাভার, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ডাকাতিসহ তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৩ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর ১৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এই চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
বিমানবন্দরকেন্দ্রিক আরেকটি চক্রের সঙ্গে বাগেরহাটের সৈয়দ নাসির উদ্দিনের নাম এসেছে। তিনি ফ্রান্সে থাকেন এবং ভারত হয়ে অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ডাকাতিতে অংশ নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি উত্তরায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশালের খানপুরের মো. জলিল মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব চক্রের সঙ্গে আল আমীন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ এবং ডিবির সাবেক সোর্স হিসেবে পরিচিত ডাকাত শহীদ গ্রুপের নামও এসেছে।
বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাতির শিকার হওয়ার একটি ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল। সিঙ্গাপুরগামী যাত্রী কুষ্টিয়ার মো. রাশেদুল ইসলাম বাসে ওঠার পর যাত্রীবেশে থাকা পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁকে জিম্মি করে মারধর ও টাকা-পয়সা লুট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে জসিমউদ্দীন গোলচত্বর এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির বলেন, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধের পর অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ানোর ঘটনাও ঘটে। তবে পুলিশের তৎপরতায় ডাকাতি অনেকাংশে কমেছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, বিমানবন্দর ও আশপাশে ডাকাতি-ছিনতাই ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান চলছে। অপরাধীরা স্থান, সময় ও কৌশল পরিবর্তন করায় তাদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।