সাগর, নদী, মৎস্য, গ্যাস ও খনিজ সম্পদসহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বরিশাল অঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও বরিশালে সম্ভাবনার কোনো ঘাটতি নেই। সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে এই অঞ্চল থেকে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।শুক্রবার সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ), ঢাকার আয়োজনে ‘আগামীর বরিশাল: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা বরিশালের মানুষের জন্য এখন প্রয়োজন সম্ভাবনাগুলোকে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করা। সাগর, নদী, পর্যটন ও মৎস্য খাতের পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও ভাঙার শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। অথচ এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল এখনো গড়ে ওঠেনি।

জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই খাতকে কেন্দ্র করে সিঙ্গাপুর বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বরিশালেও একই ধরনের শিল্প বিকাশের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনাও কাজে লাগানো যেতে পারে।নূরুল ইসলাম মনি বলেন, শুধু আলাদা আলাদা প্রকল্প নিলে হবে না; যোগাযোগ, শিল্প, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য ও কৃষিকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। এতে বরিশাল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। এজন্য দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি। গত ১৭ বছরে রাজনীতিবিদদের ভাবমূর্তি এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে যে যোগ্য অনেক মানুষ রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তার মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করা না গেলে উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এ সংকট শুধু বরিশালের নয়, পুরো বাংলাদেশের।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, উন্নয়নের কথা সবাই বললেও পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্যের অভাব রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে বরিশালের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, অতীতে ব্যক্তিস্বার্থের কারণে বরিশালের অনেক উন্নয়ন উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সময়কে এ অঞ্চলের জন্য সম্ভাবনার সময় উল্লেখ করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, পটুয়াখালীতে এক্সপার্ট প্রেসেসিং জোনের কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাকি কাজও চলছে এবং ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীরা যোগাযোগ করছেন। প্রকল্পটি চালু হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডিজেএর উপদেষ্টা ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল। প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ বরিশাল বিভাগে হয় এবং প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি দেশের প্রায় ১৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ পর্যটক প্রতিবছর কুয়াকাটা, ভাসমান পেয়ারা বাজার ও সুন্দরবমুখী হন।

তবে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান ৩০ শতাংশের বেশি হলেও বরিশাল অঞ্চলে তা ২ শতাংশের নিচে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিডিজেএ সভাপতি মাহবুব সৈকত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সানবির রুপল এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কাজী জেবেল। সংসদ সদস্য, সাংবাদিক, বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।