দেশের সব মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার। চিকিৎসার প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে যেন ঢাকামুখী হতে না হয়, সে জন্য বিভাগ ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার রাজধানীর শহিদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিংয়ের ৩২তম জাতীয় সম্মেলন ও দ্বিতীয় আউটরিচ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনতে সরকারের পাশাপাশি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য যেন দেশের মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়, সেই সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তা দেবে সরকার। পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বিকাশে পরিকল্পিত ক্যারিয়ার গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে লিভার সিরোসিস মৃত্যুর প্রধান ১০টি কারণের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে। প্রায় ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং সাড়ে চার কোটির বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। রোগটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে এক বছরের মধ্যে আক্রান্তদের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। তাই শুরুতেই রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান ও অস্ত্রোপচার পরিহার এবং চিকিৎসকদের জন্য রেডিয়েশন ঝুঁকি ভাতা চালুর দাবি তোলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সৈয়দ আওসাফ আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।