একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ডিসেম্বর সামনে রেখে এ ধরনের অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। সীমান্তের ওপার থেকে নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে দেশে। তবে যে কোনো মূল্যে তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে চায় সরকার। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই বৈঠকে পোশাক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন তিনি। সেই সঙ্গে  ডিসেম্বর সামনে রেখে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা ও  এ ধরনের অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার কথাও বলেন তিনি। 

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের কাছে যেসব তথ্য আছে, বিশ্লেষণ করে দেখেছি— নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে, যাতে অস্থিরতার সৃষ্টি করা যায়। যাতে রপ্তানি বাণিজ্য ও গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত করা যায়। দেশে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়— এই পাঁয়তারা অনেকে করছে। অত্যন্ত কঠোরভাবে এসব মোকাবিলা করবে বর্তমান সরকার।

যারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো অপতৎপরতা বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। যেকোনো সহিংসতার তৎপরতা আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করবে তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  বলেন,  কোনো শ্রমিক ভাই এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নন। কোনো শ্রমিক সংগঠনও জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের মজুরি নির্ধারণ করা হবে। শ্রমিকদের জীবন-মান যাতে উন্নত হয় এবং তাদের স্বার্থ যাতে রক্ষা হয় সে জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখতে, রপ্তানি সংকট তৈরি না করতে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ চালিয়ে নিতে গার্মেন্ট মালিকদের প্রতি  আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।