ভক্তদের চোখে অশ্রু, মুখে দেবীবন্দনা আর আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের অপেক্ষা—এমন আবেগঘন পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। 
কয়েক দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন শেষে ভক্তরা বিদায় জানান দেবী দুর্গাকে। দুপুর থেকেই ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টার বাদ্যের তালে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো বুড়িগঙ্গার তীরে আনা হয়। পরে নৌকাযোগে নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে আনন্দের পাশাপাশি ছিল বিদায়ের বিষাদ।
Screenshot 2026 10 22 172859
দেবীকে বিদায়ে ভক্তদের আবেগ
মহাখালী থেকে বাবার সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়স্মিতা জানায়, দশমীর লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মন খারাপ হতে থাকে। দেবী দুর্গার কাছে দেশ থেকে অশুভ শক্তি দূর করা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সবার মঙ্গল কামনা করেছে সে। পুরান ঢাকার হাজারীবাগ গণকটুলী থেকে আসা রীমা রানীও দেবীকে বিদায় জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হন। তাঁর ভাষ্য, পূজার কয়েকটি দিন আনন্দে কাটলেও বিসর্জনের সময় মন ভার হয়ে আসে। 
আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকতে হবে। তিনি দেশ ও মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। ধানমন্ডি থানা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাজিব কুন্ডু বলেন, তাঁরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দেবীকে বিদায় জানাচ্ছেন। তাঁর প্রার্থনা, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকুক, অন্যায়-অপরাধ দূর হোক এবং সব মানুষের মঙ্গল হোক।
Screenshot 2026 10 22 172905
সিঁদুর খেলা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
দশমীর সকালে বিভিন্ন মণ্ডপ ও মন্দিরে নারীরা দেবী দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন। পরে একে অপরের গায়ে সিঁদুর মেখে সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সোয়াট, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। 
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন জানান, ওয়াইজঘাটসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য এবার তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। যান চলাচল সহজ রাখতে সড়ক একমুখী করা হয় এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। আনন্দ, প্রার্থনা ও আবেগের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন শেষ হওয়ার পর আবারও আগামী বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের অপেক্ষায় থাকবেন ভক্তরা।