ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার প্রচেষ্টা, জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির প্রসার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বে মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ ০.৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর ফলে মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেও কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের জন্য নদী-খাল খননের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশবান্ধব পরিবহন, পাটজাত পণ্য, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং সার্কুলার অর্থনীতির মতো খাতেও কাজ করার কথা তুলে ধরেন তিনি।

জলবায়ু মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান—গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, জলবায়ু প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন।তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর একার পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের সব ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।