জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে যে বিল সংসদে আনা হয়েছে, সেটিকে দুর্বল আইন হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের জন্য উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। এর পর গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই দুটি আইন অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল। পরে বর্তমান সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করে।

বিল দুটির বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আগের অধ্যাদেশ বাতিলের সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আইন নিয়ে আসা হবে। কিন্তু বর্তমানে সংসদে উত্থাপিত মানবাধিকার কমিশন বিল পর্যালোচনা করলে আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বৈত অবস্থান দেখা যায়।তিনি অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার কমিশনকে সব ক্ষেত্রে সমানভাবে তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ কোনো নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত হলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিরাও দেশের নাগরিক। একই অপরাধের ক্ষেত্রে একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্তের সুযোগ থাকবে, অথচ অন্য ক্ষেত্রে বাধা থাকবে—আইনের ক্ষেত্রে এমন দ্বৈত প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা এমন একটি দুর্বল আইনের পাস হওয়ার অংশীদার হতে চান না। এ কারণে বিলটির আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছেন।এর পর বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ওয়াকআউট করার জন্য আপনাদেরও ধন্যবাদ।’