ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ নিজেদের নানা দাবি আদায়ে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে দেশের ৬৭০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কাজ না করেই কারখানা থেকে বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক। এসব কারখানা রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী অঞ্চলের।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় আন্দোলনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। সেখানকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টির শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যান।
ওদিকে সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টি কারখানায় কাজ বন্ধ রয়েছে। সেখানে কাজ না করে ফিরে গেছেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ জন শ্রমিক। রাজধানীর মিরপুরে ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেখানে কাজ করতে না পেরে বাসায় ফেরেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন শ্রমিক।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামের ৩১৪টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক আন্দোলনের কোনো প্রভাব এখনো পড়েনি। এসব এলাকার সব কারখানা স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার আন্দোলনের একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার ও গাজীপুর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
শিল্পাঞ্চলের এমন উত্তেজনা ও সহিংসতা পরিস্থিতিতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববার সাভার-আশুলিয়ার ১৭৭টিসহ সারা দেশে মোট ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পুলিশ জানায়, সহিংসতায় অংশ নেওয়া ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।




