রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ রোববার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা শুরু হচ্ছে। তবে কার্যক্রম শুরুর আগেই রুট বণ্টন নিয়ে কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের আপত্তি এবং বাসের ফিটনেস ও নির্ধারিত রঙ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
রবিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সূত্র অনুযায়ী, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন।
নতুন ব্যবস্থায় ছয়টি রুটে প্রাথমিকভাবে ৮১৬টি বাস নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে নন-এসি বাস ৭৯৬টি এবং এসি বাস ২০টি। প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্ব পাবে। এতে একই সড়কে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বাসের মধ্যে যাত্রী সংগ্রহের প্রতিযোগিতা কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে রুট নির্ধারণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানি। রজনীগন্ধা পরিবহনের চালক মো. আমির জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ফার্মগেট এলাকায় বাস চালালেও নতুন পরিকল্পনায় কাঁচপুর রুট দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বাস মালিক সমিতির মাধ্যমে ডিটিসিএর কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমানের ভাষ্য, রজনীগন্ধা ছাড়াও প্রজাপতি ও পরিস্থানসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রুট বরাদ্দ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি কিছু বাসের ফিটনেস এবং নির্ধারিত রঙের মান নিয়েও আপত্তি উঠেছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ চলছে। কয়েকটি কোম্পানি প্রথম দিন থেকেই যুক্ত হতে না পারলেও নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রস্তাবিত রুটভিত্তিক পরিকল্পনায় শিববাড়ী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ভিআইপি পরিবহনের ২৫৩টি বাস চলবে। মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত চিড়িয়াখানা সিটি বাসের জন্য রাখা হয়েছে ১৩৩টি বাস। ঘাটারচর-ডেমরা পথে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ পরিচালনা করবে ৭০টি বাস।
এ ছাড়া ঘাটারচর-কাঁচপুর পথে ফোর স্টার বাস লাইনের ১৫০টি, ঘাটারচর-ধউর পথে পিএনপি সিটি সার্ভিসের ১৯০টি এবং টঙ্গী-ঢাকেশ্বরী মন্দির পথে ঢাকা চাকার ২০টি এসি বাস চলাচলের প্রস্তাব রয়েছে। ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকার তিনটি সার্কুলার রুটে চলবে আরও ৬০টি বাস।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ডিটিসিএর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাজধানীর বাস চলাচলের বিদ্যমান নেটওয়ার্ককে ৩২টি করিডোরে সাজানোর কথা রয়েছে। এসব করিডোরে নির্দিষ্ট বাসস্টপের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক টিকিট ও জিপিএসের মাধ্যমে বাসের অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
যাত্রীসেবার মান বাড়ানো, সড়কে বাসের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহনে সমন্বিত পরিচালনা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে রুট বণ্টন ও যানবাহনের মানসংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা না গেলে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হতে পারে।




