সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আগামী কয়েক বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
জার্মানির বার্লিনে রোববার অনুষ্ঠিত ‘মিডওয়াইফারি ত্বরান্বিতকরণ ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশীদারত্ব: সংকট থেকে সহনশীলতার পথে’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দক্ষ মিডওয়াইফ অপরিহার্য। গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা পর্যন্ত তাদের সেবা মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এ কারণে মিডওয়াইফদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোকে সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে।
মিডওয়াইফারি শিক্ষার উন্নয়নে দেশের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশনভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান পদ্ধতি চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি পূরণে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়, শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করছে। মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে উন্নয়ন সহযোগী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে মিডওয়াইফরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। নানা সংকটের মধ্যেও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে তাদের ভূমিকা রয়েছে। নারী ও শিশুর সুরক্ষা এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।




