চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এর জবাবে নিজের মেয়াদের বৈধতা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন চসিক মেয়র।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ প্রতিক্রিয়া জানান ডা. শাহাদাত হোসেন।তিনি বলেন, জামায়াতের আমির লালদীঘিতে তাকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার দাবি, তিনি আদালতের রায়ের মাধ্যমে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

শাহাদাত হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে তার নির্বাচনী রায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে রেজাউল করিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই নির্বাচনী রায়ের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ওই মামলার রায়ের ভিত্তিতেই তাকে বৈধভাবে মেয়র হিসেবে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।তিনি জানান, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর তিনি শপথ নিয়েছেন। তার ভাষ্য, এই রায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল।নিজের মেয়র হওয়ার আইনি লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে শাহাদাত বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত ওই রায়ের জন্য তিনি প্রায় তিন বছর লড়াই করেছেন। মামলাটি করতে গিয়ে তাকে ছয় মাস কারাগারেও থাকতে হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গত ১৬ বছরে তার বিরুদ্ধে ১১০টির বেশি মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে আওয়ামী লীগের মেয়রকে অবৈধ বলা হয়েছে এবং তার মেয়াদকেও অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, তিনি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শপথ নিয়েছেন। সেই হিসেবে তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকার কথা।তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তিনি পদ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে তিনি সেই নির্বাচন আয়োজনকে স্বাগত জানাবেন। তার মতে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে এবং সবাইকে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন হওয়া উচিত।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শাহাদাত হোসেন বলেন, তার বক্তব্যে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার দাবি, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ মন্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচিত সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের মেয়াদকে বৈধতা দেওয়ার একটি বার্তা তৈরি হয়েছে।শাহাদাত আরও বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছেন।নিজের মেয়াদ নিয়ে তিনি আবারও বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেই তিনি নিজে থেকে পদ ছেড়ে দেবেন।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। যেকোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে তিনি স্বাগত জানান এবং যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের সবাইকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।