মোংলা বন্দরের পণ্য ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা বাড়ানো, অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার মোংলা সফরে বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় আন্তর্জাতিক নৌচ্যানেল ড্রেজিং, কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বড় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। 
পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বন্দর কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সভায় মোংলা বন্দরকে আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, আধুনিক লজিস্টিকস সুবিধা বাড়ানো এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়। সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপটারে সুন্দরবন-সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনালের স্থান আকাশপথে পর্যবেক্ষণ করা হয়। 
তবে বনের পরিবেশ ও প্রাণপ্রকৃতির ক্ষতি এড়াতে হেলিকপটারটি সুন্দরবনের ভেতরে অবতরণ করেনি। পরে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান এলাকায় অবতরণ করে জলযানে নৌবাহিনীর মোংলা ঘাঁটিতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি বন্দরের জেটি পরিদর্শন করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেটিতে প্রবেশ করে প্রায় ৫০ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় বন্দরের পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়। পরিদর্শন শেষে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। 
পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে হেলিকপটারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মোংলা বন্দর ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আশা, বন্দর আধুনিকায়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন জেটি ও এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
 তাঁর মতে, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশগত দিকও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পদ্মা সেতু ও খুলনা-মোংলা রেলপথের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প ও বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।