সরকার চাঁদাবাজিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মিরপুরের ঘটনার পর সরকারের প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের সক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
রাজধানীতে অটোরিকশা চালকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার অটোরিকশা নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই তা চূড়ান্ত করা হবে। অটোরিকশা পরিবেশবান্ধব ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেও এর চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে। নীতিমালায় এ বাহনের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।
জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল হলে সরকারও মূল্য সমন্বয় করবে। সরকার বাধ্য হয়েই এলপিজির দাম সমন্বয় করেছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, খুচরা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় তদারকি চলছে এবং এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের আওতায় চালের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে মাসে ১০ কেজি চাল দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২০ কেজি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন (রিকনসিলিয়েশন) প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ক্ষেত্রে দলটির অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ থাকা জরুরি। তবে অপরাধ স্বীকার করলেই ফৌজদারি অপরাধের দায় শেষ হয়ে যায় না; আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
তিনি বলেন, দলটির প্রধান নেত্রী এখনও ভয় দেখাচ্ছেন ও হুমকি দিচ্ছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে রিকনসিলিয়েশনের আলোচনা গ্রহণ করা কঠিন। রিকনসিলিয়েশন চাইতে হবে তাদেরই।




