আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্যে আনসার-ভিডিপির এক লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের বিদেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি তাদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সফিপুরে অবস্থিত আনসার-ভিডিপি একাডেমিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলা ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
প্রশিক্ষণের তালিকায় রয়েছে ৬জি ওয়েল্ডিং, নির্মাণকাজ, গাড়ি চালানো, পোশাকশিল্প, হোটেল ব্যবস্থাপনা, রান্নার কাজ, সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও জাপানি ভাষা। এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশেও কাজের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানিয়েছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বেতন, কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা যাচাই করা হবে। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মান নিশ্চিত করেই সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, বাহিনীর ৬০ লাখের বেশি সদস্যের জীবনমান উন্নয়নে বিদেশে কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। জাপানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে সমঝোতার আলোচনাও এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনবল প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এদিকে, আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের রিক্রুটিং লাইসেন্স অনুমোদন পাওয়ার পর প্রশিক্ষিত নারী ও পুরুষ সদস্যদের বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাহিনীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-এর মাধ্যমেও এ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ ও মরক্কোসহ চারটি দেশের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সফিপুর একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেছে।
প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে আনসার-ভিডিপির দেশব্যাপী নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে সমঝোতা চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বিএমইটির ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের সঙ্গে আনসার-ভিডিপির নতুন ডেটাবেজ যুক্ত করে প্রশিক্ষণার্থী ও বিদেশগামী কর্মীদের তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে কর্মরত সদস্যদের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা হচ্ছে নিজস্ব কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম) ব্যবস্থা।
বাহিনীটির কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষতা যাচাই, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কর্মসংস্থান চুক্তি ও অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে।
তাদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু বিদেশে চাকরির সুযোগই বাড়বে না, দেশের শিল্প ও সেবা খাতেও প্রশিক্ষিত কর্মীর সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে সদস্যদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার পথ তৈরি হবে।