ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন ডে’ উদযাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।মার্কিন মিশনের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরু হয়েছে ‘উই দ্য পিপল’—এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য দিয়ে। তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের গ্রীষ্মে ফিলাডেলফিয়ায় সংবিধান প্রণয়নের জন্য বিভিন্ন প্রতিনিধি একত্রিত হয়েছিলেন। নানা বিষয়ে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকলেও তারা এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করেন, যেখানে ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন এককভাবে সব ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এসব সাংবিধানিক ধারণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দিনব্যাপী আয়োজনে উন্মুক্ত আলোচনা, প্যানেল আলোচনা, প্রবন্ধ ও কুইজ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন।