দেশের জনশক্তিকে উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আজ ১ নভেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য—‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
যুবসমাজ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে পারলে জাতীয় উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিবসটি ঘিরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, র‌্যালি, পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, স্বেচ্ছায় রক্তদান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। গ্রামীণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যুবঋণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ শেষে সনদ প্রদান এবং সফল তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন রয়েছে।
তবে তরুণদের সামনে কর্মসংস্থানের সংকট, দক্ষতার সঙ্গে চাকরির বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর মতো বাধা রয়েছে। এসব সমস্যা কাটাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের সংযোগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও পরামর্শ সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের শুধু চাকরি পাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুললেই হবে না; নিজেদের উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। উদ্ভাবনী ধারণা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও বাস্তব দক্ষতার বিকাশ ঘটলে যুবসমাজ দেশের অর্থনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। জাতীয় যুব দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে এসব সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নতুন করে আলোচনায় আসছে।