কবিতার শব্দে জীবনকে দেখা, আর সাংবাদিকতার চোখে সময়কে বোঝা—এই দুই ধারার সম্মিলনে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ। আজ ১৫ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। সাহিত্য ও গণমাধ্যমে তাঁর অবদানের জন্য জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
১৯৫৫ সালের এই দিনে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার এলাহিনগর গ্রামে জন্ম তাঁর। সত্তরের দশকে কবিতাচর্চার মধ্য দিয়ে সাহিত্যজগতে যাত্রা শুরু। এরপর কবিতার পাশাপাশি প্রবন্ধ, রম্যরচনা, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য ও সম্পাদনায় রেখেছেন অবদান। মৌলিক ও সম্পাদিত বই মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়।
হাসান হাফিজের সাহিত্যকর্মে মানুষের সুখ-দুঃখ, সামাজিক বাস্তবতা, সময়ের সংকট, স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নানা আঙ্গিকে উঠে এসেছে। জীবনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং শব্দের সৃজনশীল ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তিনি কবিতায় নিজস্ব প্রকাশভঙ্গি তৈরি করেছেন।
সাংবাদিকতা জীবনেও তাঁর পথচলা দীর্ঘ। দৈনিক বাংলা, দৈনিক জনকণ্ঠ, বৈশাখী টেলিভিশন, দৈনিক আমার দেশ ও কলকাতার সাপ্তাহিক দেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হিসেবেও।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা। তাঁর কর্মজীবন দেখিয়েছে, সাহিত্যিকের সংবেদনশীলতা এবং সাংবাদিকের অনুসন্ধিৎসা কীভাবে একজন মানুষের সৃজনশীলতাকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
একজন কবি সময়ের অনুভূতিকে ভাষা দেন, আর একজন সাংবাদিক মানুষের জীবন ও সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরেন। হাসান হাফিজের দীর্ঘ কর্মজীবনে এই দুই ভূমিকা পাশাপাশি এগিয়েছে। তাঁর সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
জন্মদিনে তাঁর প্রতি রইল শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সুস্থতা, দীর্ঘ কর্মজীবন এবং নতুন সৃষ্টির আনন্দে ভরে উঠুক তাঁর আগামী দিনগুলো। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান আরও সমৃদ্ধ হোক—এই প্রত্যাশা।