রাজধানীর নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে এবার প্রকল্পের মালিক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের সিটি কাবাব হোটেলের পেছনে মো. শাহরিয়ার মাহমুদ, মো. আবুল কাশেম, বাবুলসহ চারজন তার পথরোধ করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। 
ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান নাজিম উদ্দিন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শাহরিয়ার মাহমুদকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। একই মামলার অপর দুই আসামি আবুল কাশেম ও বাবুল। তাদের মধ্যে আবুল কাশেম উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। 
অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় প্রকল্প এলাকায় থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকার বিনিময়ে একটি সন্ত্রাসী দলকে ভাড়া করা হয়েছিল। 
ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম অর্থের বিনিময়ে লোক পাঠিয়ে হামলার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মিরপুরের মামুন বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদে হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ঘটনার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে ১৩ জনের বৈঠকে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। ওই বৈঠকে শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।