পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আরও সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটিতে ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেন। বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তার পক্ষে আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ পাননি। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, এদিন সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষ্য দেওয়া সাতজন হলেন ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নিরুপম সিংহ, ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেডের উপপ্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফেরদৌস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির প্রশাসক জি এম ইশতিয়াক আজিজ, র্যাংকন ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির এবং ঢাকার সদর রেকর্ড রুমের সাবরেজিস্ট্রার মাহবুবুর রহমান।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদের ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া সম্পদের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। দুদকের হিসাবে, বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। অবৈধ সম্পদের উৎস ও মালিকানা গোপন করতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনি কারবারে অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগের অভিযোগও আনা হয়েছে।