যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১৪.৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর ঠেকাতে জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান ‘রনি’ চৌধুরীর মালিকানাধীন কোম্পানির নামে থাকা ফ্ল্যাটটি আত্মসাৎ, প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অর্থে কেনা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনসিএর আবেদনের পর চলতি সপ্তাহে আদালত এ আদেশ দেন। রিজেন্টস পার্কের কাছে অবস্থিত ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে আনিসুজ্জামান সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে দাবি তদন্ত সংস্থাটির।
আদালতে দাখিল করা সাক্ষ্যে এনসিএর এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে জটিল ও অস্বচ্ছ মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকা কোম্পানিটি মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে পরে কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ আনিসুজ্জামানের স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ এনসিএর।
সংস্থাটির আইনজীবীদের দাবি, সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংকের কাছ থেকে ফ্ল্যাটটির বিপরীতে নেওয়া ঋণ পুনঃঅর্থায়নের সুবিধা পেতেই এ হস্তান্তর করা হয়েছিল। কোম্পানির শেয়ার এক পাউন্ডে হস্তান্তর দেখানো হলেও পুরো শেয়ার বিক্রির মূল্য ছিল ১৪.৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড বলে জানিয়েছে এনসিএ।
আদালত ফ্ল্যাটটিকে অপরাধলব্ধ সম্পদ হিসেবে বিবেচনার পক্ষে যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়ে জব্দের নির্দেশ দেন। তবে বাড়ির মালিকের দখল পুনরুদ্ধারসংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রাখতে আদেশে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। আনিসুজ্জামানের আইনজীবীরা জব্দের আবেদনের বিরোধিতা করেননি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে আনিসুজ্জামান বলেন, আইনজীবীদের পরামর্শে তিনি জব্দের আবেদনের বিরোধিতা করেননি। তবে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, এনসিএ দেওয়ানি আইনে সম্পদ পুনরুদ্ধারের মামলা করলে তা মোকাবিলা করবেন। ফ্ল্যাটের মালিকানা গোপন করার অভিযোগও নাকচ করে তিনি দাবি করেন, সম্পত্তির তথ্য তদন্ত সংস্থাকে স্বচ্ছভাবে দেওয়া হয়েছিল। স্ত্রী ও সন্তানদের এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ভূমি নিবন্ধনের নথি অনুযায়ী, আনিসুজ্জামান তার কোম্পানি ‘রনি ৪২ লিমিটেডের’ মাধ্যমে ২০২৩ সালে ১২.৪ মিলিয়ন পাউন্ডে ফ্ল্যাটটি কেনেন। পরে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে ‘পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ’ রাখা হয়। এনসিএর দাবি, ডিবিএস ব্যাংকের ঋণ পুনঃঅর্থায়ন হয়নি এবং ঋণ খেলাপি হওয়ার পর ব্যাংকটি ফ্ল্যাটটির দখল নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে বিপুল সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। ২০২৫ সালের জুনে এনসিএ সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করে। একই মাসে সাইফুজ্জামান, তার স্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সম্পদের অজ্ঞাত উৎসসংক্রান্ত আদেশও পায় সংস্থাটি। তবে আনিসুজ্জামান এর আগে দাবি করেছিলেন, ভাই সাইফুজ্জামানের সঙ্গে তার কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।




