গ্রামীণ টেলিকমের কাছ থেকে পাওয়া অর্থকে লভ্যাংশ হিসেবে দেখিয়ে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গ্রামীণ কল্যাণের করসংক্রান্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত এ কর্মকাণ্ডকে ‘কর ফাঁকির ধ্রুপদী নজির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত দুটি রায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বকেয়া কর আদায়ে ডিমান্ড নোটিস জারি এবং তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সামাদ আজাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭—এই পাঁচ করবর্ষে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট করের পরিমাণ প্রায় ৬৬৭ কোটি টাকা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায় দুটি লিখেছেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ২০১১ সালের চুক্তি অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডার নয়। ফলে গ্রামীণ টেলিকমের কাছ থেকে পাওয়া অর্থকে লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ওই অর্থকে ‘অন্যান্য খাতের আয়’ হিসেবে ধরে সাধারণ হারে কর আরোপ আইনসম্মত।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, গ্রামীণ কল্যাণের নামে উৎসে কর কর্তন কিংবা সরকারি কোষাগারে কর জমার বৈধ চালান নথিতে পাওয়া যায়নি। গ্রামীণ টেলিকমের নামে থাকা চালান দেখিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ নিজেদের কর পরিশোধের দাবি করতে পারে না বলেও রায়ে বলা হয়েছে।
রায়ে ২০১৭-১৮ করবর্ষের একটি মামলার প্রসঙ্গও এসেছে। ওই বছর সংশ্লিষ্ট অর্থকে অন্যান্য খাতের আয় হিসেবে নির্ধারণ করেছিল কর কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে মামলা করলেও পরে তা আর পরিচালনা না করার আবেদন জানায়। ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর মামলাটি খারিজ হয়। আদালতের মতে, ওই করবর্ষে আয়কে অন্যান্য খাতের আয় হিসেবে মেনে নেওয়ার পরও আগের বছরগুলোর কর দিতে আপত্তি তোলার বিষয়টি সাংঘর্ষিক।
এদিকে গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে।




