দেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগছেন। আক্রান্ত নারীদের বড় একটি অংশ নিজের রোগ সম্পর্কে জানেন না। থাইরয়েড রোগের সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণ ও আধুনিক চিকিৎসা সম্প্রসারণে গবেষণা এবং সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বিটিএসের অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। ‘থাইরয়েড কেয়ার থ্রু এডুকেশন, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্টারভেনশন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী সম্মেলনে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও গবেষকেরা অংশ নেন।
অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই জানেন না যে তাঁরা এ সমস্যায় ভুগছেন। এ ছাড়া থাইরয়েড সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি ও জন্মগত থাইরয়েড সমস্যার বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, মানুষের জন্য মানসম্মত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। থাইরয়েডসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিএসের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা। সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ফৌজিয়া মোসলেমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনগুলোতে থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতি, থাইরয়েডজনিত চোখের রোগ এবং হৃদ্যন্ত্রের সঙ্গে থাইরয়েডের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ, অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া থাইরয়েডের জটিল রোগ নির্ণয়, নিউক্লিয়ার মেডিসিনের ব্যবহার, রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন চিকিৎসা এবং ক্যান্সার-পরবর্তী রোগী পরিচর্যা নিয়ে দেশি-বিদেশি গবেষণা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে ১২টি মৌখিক গবেষণাপত্র ও ১০টি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়। সেরা উপস্থাপকদের পুরস্কৃত করা হয়। পরে বার্ষিক সাধারণ সভা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।




