আজকের বিশ্বখ্যাত তারকা শাহরুখ খানের অভিনয়জীবনের শুরুতে জড়িয়ে আছে মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা। তারকাখ্যাতি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে নয়, বরং মায়ের একটি ইচ্ছা পূরণের প্রেরণা থেকেই অভিনয়ের জগতে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি—এমন কথাই উঠে এসেছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকের এক সাক্ষাৎকারে।
১৯৯১ সালের সাক্ষাৎকারে শাহরুখ বলেছিলেন, ছোটবেলায় সিনেমার জগৎ তাকে বিশেষভাবে টানত না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের নানা বিষয় শুনে বরং অস্বস্তি হতো তার। অভিনয়কে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল না। কিন্তু মা লতিফ ফাতিমা খানের মৃত্যুর পর তার জীবন ও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে।
শাহরুখের মা ছেলেকে বড় পর্দায় দেখতে চাইতেন। মায়ের সেই স্বপ্নই পরে তার কাছে হয়ে ওঠে অভিনয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রেরণা। মাকে হারানোর শোক নিয়ে দিল্লির বাড়িতে থাকাও তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। বাড়ির প্রতিটি কোণে মায়ের স্মৃতি ফিরে আসত। একসময় সেই পরিবেশ থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে মুম্বাইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি অভিনয়কেই জীবনের নতুন পথ হিসেবে গ্রহণ করেন শাহরুখ। তবে অভিনয় শেখার ক্ষেত্রে প্রথাগত প্রশিক্ষণের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলেন না তিনি। অন্যদের অভিনয় পর্যবেক্ষণ, মানুষের আচরণ বোঝা এবং নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াকে দক্ষতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায় মনে করতেন।
১৯৮৯ সালে ‘ফৌজি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে তার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। ছোট পর্দায় পরিচিতি পাওয়ার পর ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। সময়ের সঙ্গে নিজের অভিনয়শৈলী, সংলাপ বলার ধরন ও পর্দায় উপস্থিতি দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন।
শাহরুখের জীবনকাহিনির এই অধ্যায় মনে করিয়ে দেয়, একজন তারকার পথচলার পেছনে ব্যক্তিগত আবেগও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যে চলচ্চিত্রজগৎ একসময় তাকে আকৃষ্ট করেনি, শেষ পর্যন্ত সেই জগতেই নিজের স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেন তিনি। আর তার অভিনয়জীবনের শুরুর গল্পে মায়ের স্বপ্ন ও স্মৃতি রয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে।
সূত্র: আজকাল




