দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন নিতে পারবে না কোনো অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বৃত্তির অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সম্প্রতি চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দিতে হবে।
বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জনকারীরা মেধাবৃত্তি পেয়েছেন। অন্যদিকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সাধারণ বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়েছে। চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে জিপিএ-৩ অর্জনকে বৃত্তি পাওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়েছে।
বৃত্তি বণ্টনে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ছাত্র ও ছাত্রীর মধ্যে ৫০ শতাংশ করে বৃত্তি ভাগ করা হবে। বিজ্ঞান এবং সাধারণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বণ্টনের অনুপাত হবে ৩:২।
বৃত্তির সুবিধা অব্যাহত রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো আচরণ এবং পড়াশোনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি বজায় রাখতে হবে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাই কেবল বৃত্তির আওতায় থাকবেন।
বোর্ডের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বৃত্তিপ্রাপ্তদের কাছ থেকে মাসিক বেতন আদায় করা যাবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান এ নিয়ম অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যে কোর্সে অধ্যয়ন করছেন, তার মেয়াদ অনুযায়ী প্রতিবছর একবার বৃত্তির অর্থ পাবেন।
অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে সরকার-টু-পার্সন (জিটুপি) ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাযুক্ত কোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাবের নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃত্তিপ্রাপ্ত কেউ প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলে সংশ্লিষ্ট পুরোনো ও নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানাতে হবে। একাধিক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীরা বৃত্তির অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। তবে দেরিতে ভর্তি, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন কিংবা অসুস্থতার কারণে সর্বোচ্চ এক বছর পড়াশোনায় বিরতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বৃত্তি পুনরায় চালুর নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তি খাত থেকে এ অর্থ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বৃত্তির সংখ্যা, অর্থের পরিমাণ ও মেয়াদ পরিবর্তন কিংবা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে বৃত্তি সংশোধন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।




