বিশ্ববাজারে ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। যদিও পুরো সপ্তাহের হিসাব করলে মূল্যবান ধাতুটির দাম এখনো কমার দিকেই রয়েছে।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩৪৬ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছায়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দর প্রায় ২ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল। ওই দিন প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক বা পিপিআইয়ের তথ্য থেকে আগস্টে জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

অন্যদিকে ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।সাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন মনে করেন, তেলের দাম কমে আসায় স্বর্ণের বাজার কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মন্ত্রীদের বৈঠক থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে অগ্রগতির সম্ভাবনাও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ৪ হাজার ৩০০ ডলারের কাছাকাছি পর্যায়ে ক্রেতাদের আবার সক্রিয় হওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। এতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়। আর সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় না দেওয়া স্বর্ণের আকর্ষণ সাধারণত কমে যায়।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে পরিচালনার বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগে ওমান ও ইরানের মধ্যস্থতায় উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।এদিকে তেলের দর কিছুটা কমলেও সপ্তাহ শেষে প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের হিসাবে, আগামী সপ্তাহে ফেডের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ৬৭ শতাংশ। বৃহস্পতিবারের তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৬২ শতাংশ। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। এই তথ্য থেকে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

ভারতে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের বাজারে চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল ছিল। দামের ওঠানামায় ক্রেতারা সতর্ক থাকায় কেনাকাটা কমেছে। তবে বিশ্বের শীর্ষ ভোক্তা দেশ চীনে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা এখনো শক্তিশালী।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০৮ ডলারে উঠেছে। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে রুপার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। প্লাটিনাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০০ দশমিক ২৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০২ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের হিসাবে অবশ্য এই দুই ধাতুর দামও নিম্নমুখী।