ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃতির সবুজ ছোঁয়া পেতে অনেকেই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধক গাছ রাখেন। এসব গাছের মধ্যে ড্রাসিনা (Dracaena) অন্যতম। আকর্ষণীয় পাতার বিন্যাস, সহজ পরিচর্যা এবং ঘরের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে গাছটি বেশ জনপ্রিয়। বারান্দা, বসার ঘর কিংবা জানালার পাশে টবে এটি সহজেই রাখা যায়।
ছবির গাছটি ড্রাসিনা পরিবারের কোনো প্রজাতি বলে মনে হচ্ছে। এর লম্বাটে সবুজ পাতা এবং গুচ্ছাকারে বেড়ে ওঠার ধরন ঘরের সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
ঘরে ড্রাসিনা গাছ রাখার উপকারিতা
ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি: গাছটির সবুজ ও আকর্ষণীয় পাতার কারণে ঘরের সাজসজ্জায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আসে। বসার ঘর, পড়ার ঘর কিংবা বারান্দায় এটি মানানসই।
মানসিক প্রশান্তি: ঘরে সবুজ গাছপালা থাকলে অনেকের মন ভালো থাকে। প্রকৃতির সান্নিধ্য মানসিক চাপ কমাতে এবং স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে।
ঘরের পরিবেশে সতেজতা: গাছটি ঘরের মধ্যে সবুজের উপস্থিতি বাড়ায়। তবে এটি একাই ঘরের বায়ুদূষণ দূর করে বা অক্সিজেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
পরিচর্যায় তুলনামূলক সহজ: নিয়মিত পানি দেওয়া, পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা এবং মাঝে মাঝে সার প্রয়োগ করলেই গাছটি ভালো রাখা যায়। ফলে নতুন বাগানপ্রেমীরাও এটি পরিচর্যা করতে পারেন।
ড্রাসিনা গাছের পরিচর্যার নিয়ম
আলো ও স্থান নির্বাচন
ড্রাসিনা উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলো পছন্দ করে। জানালার পাশে, বারান্দায় কিংবা এমন স্থানে রাখতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো আসে। দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে রাখলে পাতায় পোড়া দাগ পড়তে পারে।
পানি দেওয়ার নিয়ম
এই গাছের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ। টবের মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হবে। প্রতিদিন পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে।
মাটি তৈরি
গাছটির জন্য ঝুরঝুরে ও পানি নিষ্কাশনের উপযোগী মাটি প্রয়োজন। বাগানের মাটির সঙ্গে কোকোপিট, পচা জৈব সার এবং কিছু মোটা বালি মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। টবের নিচে পানি বের হওয়ার ছিদ্র থাকা জরুরি।
সার প্রয়োগ
গাছের বৃদ্ধির জন্য মাসে একবার অল্প পরিমাণ সুষম তরল সার দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত সার ব্যবহার করা যাবে না। সার দেওয়ার আগে মাটি খুব শুকনো আছে কি না খেয়াল রাখতে হবে।
পাতার যত্ন
পাতায় ধুলো জমলে ভেজা নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এতে পাতার স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় থাকে। শুকনো বা হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা পরিষ্কার কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলতে হবে।
পোকামাকড় থেকে সুরক্ষা
মাঝেমধ্যে পাতার নিচের অংশ ও কাণ্ড পরীক্ষা করতে হবে। মিলিবাগ, স্পাইডার মাইট ও স্কেল পোকার আক্রমণ হতে পারে। আক্রান্ত পাতা আলাদা করে পরিষ্কার করতে হবে।
টব পরিবর্তন
গাছের শিকড় টবের নিচ দিয়ে বের হলে কিংবা টবের ভেতর জায়গা কমে গেলে কিছুটা বড় টবে স্থানান্তর করতে হবে। সাধারণত শিকড়ের বৃদ্ধি অনুযায়ী প্রায় দুই বছর পরপর টব পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
কিছু সতর্কতা
* গাছটি শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা ভালো।
* বিড়াল ও কুকুরের জন্য ড্রাসিনা খেলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
* অতিরিক্ত পানি ও সরাসরি কড়া রোদ থেকে গাছকে দূরে রাখতে হবে।
* পাতার আগা বাদামি হয়ে গেলে পানির গুণমান, আর্দ্রতা ও পরিচর্যার বিষয়গুলো পরীক্ষা করতে হবে।
ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে ড্রাসিনা একটি চমৎকার শোভাবর্ধক গাছ। এর পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হলেও আলো, পানি ও মাটির বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। নিয়মিত যত্ন পেলে গাছটি দীর্ঘদিন সতেজ ও সবুজ থাকবে। তবে ঘরের বায়ু বিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শুধু একটি বা দুটি গাছের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।




