রংপুরের মিঠাপুকুরে বৈবাহিক তথ্য গোপন রেখে সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আফছানা মিমি নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে অবিবাহিত উল্লেখ করার পেছনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার মা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আফছানা মিমি উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের লহনী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী খায়রুল ইসলামের বাড়ি একই ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে। ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি করেছেন খায়রুল।
সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ চলে। নিয়োগের শর্তে প্রার্থীদের অবিবাহিত হওয়ার কথা থাকলেও মিমি নিজের বৈবাহিক পরিচয় গোপন করে আবেদন করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশি যাচাইয়েও তাকে অবিবাহিত দেখানো হয়। এ কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী।
খায়রুল ইসলামের ভাষ্য, বিয়ের পর তিনি স্ত্রীকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তবে তাদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ তৈরি হলে ২০২৩ সালে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার পারিবারিক সালিশ হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। তার দাবি, এসবের মধ্যে তাকে না জানিয়েই মিমি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন।
অন্যদিকে মিমির মা রুপালী বেগমের দাবি, মেয়ের বিয়ে হয়েছিল অল্প বয়সে। তার মেয়েকে স্বামী নির্যাতন ও অপবাদ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীতে চাকরি পাওয়ার পর মিমি প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছেন। ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়ম অনুযায়ী চার হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, বিয়ের কোনো কাবিননামা নেই।
বর্তমানে আফছানা মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সেখানে অবস্থান করায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পুলিশি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পরিচয় জানতে চাইলে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন বিষয়টি গোপনীয় বলে জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।