সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ডবয় করিম সরকারের বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত করিম সরকার উপজেলার কর্ণসুতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে। তিনি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ডবয় হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হায়দারপুর গ্রামের ওই তরুণী শুক্রবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার ভোরে অভিযুক্ত করিম নারী ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে চান এবং ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি না, তা জিজ্ঞাসা করেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি তরুণীর কপাল ও গলায় হাত দেন। পরে পিঠ ও বুকে হাত দিয়ে বলেন, তাঁর প্রচুর জ্বর। এ সময় তরুণী চিৎকার করে মাকে ডাকেন এবং বিষয়টি কর্তব্যরত নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এর আগেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সে সময় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে। হাসপাতালের আন্তবিভাগের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর তাঁরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হাসপাতালের নারী কর্মীদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারত বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল মুকিত বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী চাইলে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারবেন। অভিযুক্ত করিম সরকারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাশমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।