বরিশালের উজিরপুরে সড়ক উন্নয়নকাজের সুযোগে সরকারি জায়গার গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সানুহার-ধামুরা সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। গত ২ নভেম্বর বিকেলে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করে ফিরে যান উপজেলা প্রকৌশলী। পরদিন সকালে আবার সেখানে গিয়ে সড়কের মাঝামাঝি কয়েকটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সড়কের পাশের সরকারি গাছগুলো চিহ্নিত করে যান। এরপর বিভিন্ন সময়ে গাছ কেটে নেওয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে সানুহার থেকে কচুয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ নিয়ে শোলক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তোলেন তিনি। পরে দলীয় নেতাদের অনুরোধে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও গাছ কাটার ঘটনা সত্য বলে দাবি করেন ওই সাবেক ছাত্রদল নেতা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জিয়া আমিন রাঢ়ীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
উজিরপুরের বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, কেটে নেওয়া গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতাভুক্ত নয়। তবে সাবেক একজন সংসদ সদস্য স্থানীয়দের নিয়ে গাছগুলো রোপণ করেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, সড়কটি এলজিইডির অধীনে হলেও গাছগুলো কারা রোপণ করেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সরকারি জায়গার গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।