কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে অসংখ্যবার টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনা ঘটলেও মৌখিক সতর্কতাতেই দায়মুক্তি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এমনটাই ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু যার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে সেই কর্মকর্তা এর সত্যতা প্রমাণ পেয়েও এত বড় অপরাধ করার পরেও কেবল মৌখিক সতর্কতাতেই দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিতে হতবাক হয়েছেন বলে জানান উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হামের রোগীর স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার মহাখালী যেতে হয়। এই দায়িত্বটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই বিভাগ পালনে করে থাকেন। তবে এ বিভাগের একজন স্টাফকে পাঠানোর কথা থাকলেও এই বিভাগের দায়িত্বটা পালন করছেন ইপিআই বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ভাষান চন্দ্র কীর্তনীয়া। 
অন্তত ৩০৫টি ভুয়া স্মারক নাম্বারে, ৩০৫টি মেমো ও চিঠি ইস্যু করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে এই ভাসান চন্দ্র কীর্তনীয়ার বিরুদ্ধে। 
এর আগে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে দেওয়া সেই টিকা বিক্রি, করোনার ভ্যাকসিন সংরক্ষণে অনিয়ম এবং সরকারী জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে ব্যাহত করা সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর তদন্ত সাপেক্ষে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছিল।
 এতগুলো ভুয়া স্মারক নাম্বার ব্যবহার, ভুয়া মেমো তৈরি এবং কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে চিঠি ইস্যু করার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং এর সত্যতা প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা করতে কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস।
মুঠোফোনে কথা হলে এই ডা. রাজন কুমার দাস জানান, অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) ভাসান চন্দ্র কীর্তনীয়া যে আমার স্বাক্ষর অনেকবার জাল করেছে তা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছি। 
এমতো পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. রাজন কুমার দাস জানান, আমি এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভাষণ চন্দ্র কীর্তনিয়াকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়েছি এবং বিষয়টি স্থানীয় ভাবেই শেষ করতে চাই।
অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) ভাষান চন্দ্র কীর্তনীয়া কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার এমন দাবি ও ইত্তেফাক প্রতিনিধির হাতে অভিযোগের স্বপক্ষে সকল তথ্য প্রমান থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ভাসান চন্দ্র কীর্তনীয়া সেই দাবি অস্বীকার করতে এলোমেলো ও অসংলগ্ন কথা বলেন । 
এত বড় অপরাধ প্রমাহিত হওয়া সত্বেও শুধুমাত্র মৌখিকভাবে সতর্ক করার মাধ্যমে দায় মুক্ত করা ঠিক হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই বা কেউ আমাকে এ বিষয়ে কিছু যায়নি। তবে এত বড় অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় তবে অভিযুক্তকে মৌখিক সতর্ক করা বা সাধারণ ক্ষমারও কোন সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ছবি ক্যাপশনঃ মতলব উত্তর (চাঁদপুর) উপজেলার মরাদোনে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।