ফেনীর সাতটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২১ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬২ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময়ে জেলায় ৩৯ হাজার ৩৫০টি দলিল নিবন্ধন করা হয়। আগের অর্থবছরে ৩৪ হাজার ৩৪৩টি দলিল নিবন্ধন থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২০২ কোটি ৯৯ লাখ ২৪ হাজার ৬১০ টাকা।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন, বাংলাদেশ, ঢাকায় পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী সুমন চৌধুরী জানান, রাজস্ব আয়ে এগিয়ে রয়েছে ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। এ অফিসে ৯ হাজার ৬৭৭টি দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে ১০০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি আদায় হয়েছে।
এ ছাড়া লেমুয়ায় ৪ হাজার ৮৪৫টি দলিলে ১৫ কোটি, মতিগঞ্জে ৭ হাজার ১৫০টি দলিলে ২৫ কোটি ৭১ লাখ, দাগনভূঞায় ৭ হাজার ৬৫৭টি দলিলে ৩৬ কোটি ৪৬ হাজার, ছাগলনাইয়ায় ৪ হাজার ৩৯১টি দলিলে ২১ কোটি ২৭ লাখ, ফুলগাজীতে ২ হাজার ৯৯৬টি দলিলে ১১ কোটি এবং পরশুরামে ২ হাজার ৬৩৪টি দলিলে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ছাপকবলা, দানপত্র, হেবা, বিনিময় দলিল, বণ্টননামা, চুক্তিপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও ঘোষণাপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের দলিল নিবন্ধন থেকে এ রাজস্ব এসেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে ভূমির দাখিলা ও খতিয়ান যাচাই, জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার এবং দলিলপত্র যাচাইয়ের মতো পদক্ষেপ নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। রেজিস্ট্রি খরচ, উৎসকর ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর নির্ধারিত ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় সরকারি কোডে জমা হওয়ায় রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
দাগনভূঞা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. অকিল উদ্দিন বলেন, নিবন্ধনসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি ও কর ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হয়। ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম বলেন, মৌজাভিত্তিক জমির মূল্য নির্ধারণে অসামঞ্জস্য দূর করে এলাকাভেদে বাস্তবসম্মত হার নির্ধারণ করা গেলে মানুষের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে দলিল নিবন্ধন ও রাজস্ব আদায় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।




