সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশে এসে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই দেশে ফিরছেন নিউজিল্যান্ডের একটি পরিবারের তিন সদস্য। গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর মোহনা-সংলগ্ন সাগরে তাদের নৌযান ‘আইল্যান্ড গার্ল’ ডুবে যায়। এ ঘটনায় পরিবারের এক কিশোর সন্তান আলবার্টের মৃত্যু হয়। বিধ্বস্ত নৌযানটি পড়ে আছে বাঁকখালী নদীতে, আর কিশোরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে নদীর তীরের একটি শ্মশানে।
পরিবারের তিন সদস্য জন এডওয়ার্ড, তার স্ত্রী বেলা (৩৬) ও ছেলে রালফ (১৩) শুক্রবার মধ্যরাতে আকাশপথে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। দেড় মাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থানের পর বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও ভ্রমণ নথি-সংক্রান্ত সমস্যা কাটিয়ে তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান জানান, পরিবারের তিন সদস্যের দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। নৌকাডুবির সময় তাদের পাসপোর্টসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যায়। বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের দূতাবাস না থাকায় শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে অনলাইন ও ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জন এডওয়ার্ড ২০২৪ সালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে তারা কক্সবাজারে তৈরি করেন ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের বিশেষ নৌযানটি। দুটি কাঠের নৌযান জোড়া দিয়ে তৈরি এ জলযানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ফ্রিজ ও রান্নাঘরসহ নানা সুবিধা ছিল। এটি নির্মাণে এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্মাণকাজে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট নৌযানটি ডুবে গেলে পরিবারের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ কিশোর আলবার্টের মরদেহ পরদিন উদ্ধার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশের উপস্থিতিতে বাঁকখালী নদীর তীরের একটি শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে পরিবারের সম্মতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল রাতে মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে পরিবারটি ডাকাতির শিকার হয়েছিল বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছিল। ওই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তাদের সমুদ্রযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করেছিল।
এখন পরিবারের তিন সদস্য দেশে ফিরলেও বাঁকখালী নদীতে পড়ে রয়েছে তাদের স্বপ্নের নৌযান ‘আইল্যান্ড গার্ল’। আর কক্সবাজারের মাটিতেই রয়ে গেল তাদের হারানো সন্তান আলবার্টের শেষ স্মৃতি।




