সুন্দরবনে ডাকাত দমনে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান ‘রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কোনো ডাকাতকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানায়, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীগুলো নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা থানার আওতাধীন সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় দুর্র্ধষ ডাকাত সাত্তার বাহিনী কয়েকজন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি করে রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথভাবে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা জিম্মি জেলেদের ফেলে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, পৃথক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার দাকোপ থানার আওতাধীন সুন্দরবনের কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি ডাকাত দল অবস্থান করছে বলে জানতে পারে কোস্ট গার্ড। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন নলিয়ান ওই এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়। ফলে তাদের কাউকে আটক কিংবা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি ০.২২ ক্যালিবারের বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ০.২২ ক্যালিবারের বন্দুকের ৫২ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া পাঁচ জেলেররা হলেন—জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)। তাদের সবার বাড়ি খুলনার কয়রা থানায়।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।