গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে চলন্ত নৌকায় এবার যমজ সন্তান জন্ম দিয়েছেন চরাঞ্চলের এক নারী। বর্তমানে নবজাতক দুইজন ও প্রসূতি মা সুস্থ আছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ঘাট ও বালাসী ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে এই ঘটনা ঘটে। ওই প্রসূতি মা উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। এর তিনদিন আগে গত শনিবার গাইবান্ধা শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ব্রহ্মপুত্র নদে চলন্ত নৌকায় চরাঞ্চলের আরও এক প্রসূতি এক কন্যা সন্তানের জম্ম দিয়েছিলেন।
 স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার ভোরে ওই প্রসুতি মা বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পরলে স্বজনরা তাকে গাইবান্ধা শহরের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ জন্য মাচা তৈরী করে ওই নারীকে তাতে তুলে কাধে করে নিয়ে দীর্ঘ বালুচর পারি দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে জিগাবাড়ী ঘাট পৌঁছান। সেখান থেকে একটি নৌকাযোগে বালাসী ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। 
সকাল ১০টার দিকে নৌকাটি ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝপথে পৌঁছালে ওই গর্ভবতী নারীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। এ সময় নৌকায় থাকা যাত্রীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে নৌকায় থাকা নারী যাত্রী ও স্বজনেরা কাপড় দিয়ে চারপাশ আড়াল তৈরী করে নিরাপদ প্রসবের পরিবেশ তৈরী করেন। সেখানেই নৌকার মধ্যেই তিনি যমজ সন্তানের জন্ম দেন। প্রথমে ছেলে ও পরে মেয়ে সন্তান।
 মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান বর্তমানে সুস্থ আছে। সবার কাছে দোয়া চাই।’ নৌকায় থাকা এরেন্ডাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ফজলে রাব্বি বলেন, ‘হঠাৎ মাঝ নদীতে নৌকায় ওই নারীর প্রসববেদনা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ারও কোন সুযোগ ছিল না। পরে নৌকাতেই যমজ সন্তানের জন্ম হয়।’ এরেন্ডাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি প্রসূতিসেবা পাওয়া অনেক দুঃসাধ্য ব্যাপার। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।